নতুন বছরের আলোর মতোই ঝরছে আশার হলুদ-মাগুরার মাঠজুড়ে সরিষার বাম্পারের সম্ভাবনা


নতুন বছরের সূচনায় মাগুরার দিগন্তজোড়া মাঠ যেন হলুদ চাদরে ঢেকে গেছে।পৌষের শুরুতেই জেলার বিভিন্ন গ্রামের সরিষাক্ষেতে নেচে উঠেছে সোনালি ফুল।শীতের কুয়াশা ভেদ করে ভোরের নরম আলো যখন মাঠ ছুঁয়ে যায়,তখন সরিষার ফুলে ভরা বিস্তীর্ণ প্রান্তর যেন প্রকৃতিকে দেয় নতুন প্রাণ।চারদিকে শুধু হলুদের উচ্ছ্বাস-দেখলে মনে হয় কেউ যেন দিগন্ত ছুঁয়ে দেয় এমন এক হলুদের গালিচা বিছিয়ে রেখেছে।


সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়,প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর মাঠ। কেউ স্মৃতিবন্দী করছেন প্রকৃতির এই রূপ,কেউ বা সরিষার ফুলের মাঝে দাঁড়িয়ে লাইভ করছেন বন্ধুদের দেখানোর জন্য।মাগুরা সদরের আবালপুর,দেড়ুয়া, পাকাকাঞ্চনপুর,সত্যপুর রাঘবদাড় ও পাটকেলবাড়ি মহম্মদপুরের ইছামতি বিলসহ বিভিন্ন গ্রামের মাঠে এখন সরিষা ফুলের সমারোহ।কোথাও ফুল ফুটছে,কোথাও আবার ফল ধরা শুরু করেছে-সব মিলিয়ে মাঠজুড়ে এক অনন্য প্রাণচাঞ্চল্য।
জেলা কৃষি বিভাগ জানায়,আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার জেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছে তারা।ইতোমধ্যে জেলার-২২ হাজার ৮৯৩ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।এর মধ্যে সদরে ১০ হাজার ৪০৮ হেক্টর, শ্রীপুরে ১ হাজার ৪০৫ হেক্টর,শালিখায় ৭ হাজার ৩৬০ হেক্টর এবং মহম্মদপুরে ৩ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।এ বছর সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ৯০ হেক্টর।
মহম্মদপুর উপজেলার সরিষা চাষী জাকির হোসেন জানান,,
“দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি।খরচ কম,পরিশ্রমও কম-তাই এ চাষ আমাদের জন্য লাভজনক।আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।”
ছয়চার গ্রামের কৃষক শফিকুল বলেন, “প্রতি বছরই সরিষা চাষ থেকে ভালো ফল পাই। এ বছর আরও ভালো ফলনের আশা করছি।”
বালিয়াডাঙ্গার নাজিম উদ্দিন জানান, “তিন বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। এখন ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে মাঠ। অল্প ক’দিনের মধ্যেই ফল ধরা শুরু করবে, তারপর দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে সরিষা পাকা শুরু করবে।”
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো.তাজুল ইসলাম বলেন,“এই বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।তীব্র শীত,কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহ সরিষার তেমন ক্ষতি করবে না বলে আমরা ধারণা করছি।কৃষকদের উৎসাহিত করতে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।”
শীতের সকালে সরিষা ফুলের এই সোনালি হাসি শুধু মাঠ নয়, কৃষকের চোখেও জাগিয়ে তুলেছে নতুন বছরের নতুন স্বপ্ন ও আশার আলো।

]]>

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

৯৮০ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি আটক।

নতুন বছরের আলোর মতোই ঝরছে আশার হলুদ-মাগুরার মাঠজুড়ে সরিষার বাম্পারের সম্ভাবনা

Update Time : ১০:৫৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬


নতুন বছরের সূচনায় মাগুরার দিগন্তজোড়া মাঠ যেন হলুদ চাদরে ঢেকে গেছে।পৌষের শুরুতেই জেলার বিভিন্ন গ্রামের সরিষাক্ষেতে নেচে উঠেছে সোনালি ফুল।শীতের কুয়াশা ভেদ করে ভোরের নরম আলো যখন মাঠ ছুঁয়ে যায়,তখন সরিষার ফুলে ভরা বিস্তীর্ণ প্রান্তর যেন প্রকৃতিকে দেয় নতুন প্রাণ।চারদিকে শুধু হলুদের উচ্ছ্বাস-দেখলে মনে হয় কেউ যেন দিগন্ত ছুঁয়ে দেয় এমন এক হলুদের গালিচা বিছিয়ে রেখেছে।


সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়,প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর মাঠ। কেউ স্মৃতিবন্দী করছেন প্রকৃতির এই রূপ,কেউ বা সরিষার ফুলের মাঝে দাঁড়িয়ে লাইভ করছেন বন্ধুদের দেখানোর জন্য।মাগুরা সদরের আবালপুর,দেড়ুয়া, পাকাকাঞ্চনপুর,সত্যপুর রাঘবদাড় ও পাটকেলবাড়ি মহম্মদপুরের ইছামতি বিলসহ বিভিন্ন গ্রামের মাঠে এখন সরিষা ফুলের সমারোহ।কোথাও ফুল ফুটছে,কোথাও আবার ফল ধরা শুরু করেছে-সব মিলিয়ে মাঠজুড়ে এক অনন্য প্রাণচাঞ্চল্য।
জেলা কৃষি বিভাগ জানায়,আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার জেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছে তারা।ইতোমধ্যে জেলার-২২ হাজার ৮৯৩ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।এর মধ্যে সদরে ১০ হাজার ৪০৮ হেক্টর, শ্রীপুরে ১ হাজার ৪০৫ হেক্টর,শালিখায় ৭ হাজার ৩৬০ হেক্টর এবং মহম্মদপুরে ৩ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।এ বছর সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ৯০ হেক্টর।
মহম্মদপুর উপজেলার সরিষা চাষী জাকির হোসেন জানান,,
“দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি।খরচ কম,পরিশ্রমও কম-তাই এ চাষ আমাদের জন্য লাভজনক।আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।”
ছয়চার গ্রামের কৃষক শফিকুল বলেন, “প্রতি বছরই সরিষা চাষ থেকে ভালো ফল পাই। এ বছর আরও ভালো ফলনের আশা করছি।”
বালিয়াডাঙ্গার নাজিম উদ্দিন জানান, “তিন বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। এখন ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে মাঠ। অল্প ক’দিনের মধ্যেই ফল ধরা শুরু করবে, তারপর দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে সরিষা পাকা শুরু করবে।”
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো.তাজুল ইসলাম বলেন,“এই বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।তীব্র শীত,কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহ সরিষার তেমন ক্ষতি করবে না বলে আমরা ধারণা করছি।কৃষকদের উৎসাহিত করতে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।”
শীতের সকালে সরিষা ফুলের এই সোনালি হাসি শুধু মাঠ নয়, কৃষকের চোখেও জাগিয়ে তুলেছে নতুন বছরের নতুন স্বপ্ন ও আশার আলো।

]]>