বিএনপির শক্তির একমাত্র উৎস জনগণ: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মালিক জনগণ, আর জনগণই বিএনপির শক্তির একমাত্র উৎস।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, গত দেড় যুগ ধরে দেশে মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের অধিকার, জবাবদিহিতা ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেশকে স্বৈরাচারের পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। তবে গত বছরের গণআন্দোলনে জনগণই প্রমাণ করেছে—তাদের হাতেই দেশের আসল শক্তি।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নয়, কোমলমতি শিশুদের হাত থেকেও রেহাই দেয়নি শাসকগোষ্ঠী। শিশু, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেককে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জনগণ বিজয়ী হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের শুধু ক্ষমতা ছাড়তেই হয়নি, পালিয়ে যেতে হয়েছে। দেশের মানুষ এখন প্রত্যাশা করে, একটি গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ বাংলাদেশ।

জনগণের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে জনগণের হাতে তুলে দিতে বদ্ধপরিকর। এজন্য তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান—দেশকে জনগণের প্রত্যাশিত রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করে যাওয়ার।

সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও একসময় আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ছিল। কিন্তু এখন সেটি বিএনপির দুর্গে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোও চায়—বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক, আর তা ঘটুক তারেক রহমানের নেতৃত্বে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, গত ১৬ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হয়েছেন। ২০২৪ সালের আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছে বিএনপির কর্মীরাই। অথচ আজ কেউ কেউ শহীদের রক্তকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন—এ সাহস তারা কোথা থেকে পায়?

দীর্ঘ ৮ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সভাপতি পদে একাধিক প্রার্থী না থাকায় বিএনপি মহাসচিবের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমীন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আর সাধারণ সম্পাদক পদে তিন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ছাতা মার্কার প্রার্থী পয়গাম আলী ৩৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

৯৮০ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি আটক।

বিএনপির শক্তির একমাত্র উৎস জনগণ: তারেক রহমান

Update Time : ০৭:৪৫:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মালিক জনগণ, আর জনগণই বিএনপির শক্তির একমাত্র উৎস।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, গত দেড় যুগ ধরে দেশে মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের অধিকার, জবাবদিহিতা ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেশকে স্বৈরাচারের পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। তবে গত বছরের গণআন্দোলনে জনগণই প্রমাণ করেছে—তাদের হাতেই দেশের আসল শক্তি।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নয়, কোমলমতি শিশুদের হাত থেকেও রেহাই দেয়নি শাসকগোষ্ঠী। শিশু, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেককে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জনগণ বিজয়ী হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের শুধু ক্ষমতা ছাড়তেই হয়নি, পালিয়ে যেতে হয়েছে। দেশের মানুষ এখন প্রত্যাশা করে, একটি গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ বাংলাদেশ।

জনগণের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে জনগণের হাতে তুলে দিতে বদ্ধপরিকর। এজন্য তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান—দেশকে জনগণের প্রত্যাশিত রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করে যাওয়ার।

সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও একসময় আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ছিল। কিন্তু এখন সেটি বিএনপির দুর্গে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোও চায়—বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক, আর তা ঘটুক তারেক রহমানের নেতৃত্বে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, গত ১৬ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতিত হয়েছেন। ২০২৪ সালের আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছে বিএনপির কর্মীরাই। অথচ আজ কেউ কেউ শহীদের রক্তকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন—এ সাহস তারা কোথা থেকে পায়?

দীর্ঘ ৮ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সভাপতি পদে একাধিক প্রার্থী না থাকায় বিএনপি মহাসচিবের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমীন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আর সাধারণ সম্পাদক পদে তিন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ছাতা মার্কার প্রার্থী পয়গাম আলী ৩৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।