স্কুলজীবনের স্মৃতি | শৈশব ও বন্ধুত্বের অমলিন গল্প

স্কুলজীবন : অমলিন স্মৃতি

জীবনের দীর্ঘ পথচলায় কিছু মুহূর্ত থাকে, যা কখনোই মুছে যায় না। সময় যতই বয়ে যাক, সেসব স্মৃতি রঙিন হয়ে ফিরে আসে মনে। আমার জন্য সেই অমলিন স্মৃতির নাম— স্কুলজীবন।

শৈশবের রঙিন সকাল

সেই দিনগুলোতে ছিল না কোনো চাওয়া, ছিল না কোনো দায়। ছিল কেবল দুষ্টুমি, হাসি আর খেলা। ভাইয়ের সঙ্গে খেলনা নিয়ে ঝগড়া, আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই একসাথে দৌড়ে বেড়ানো— সবই ছিল এক স্বপ্নিল খেলার মাঠ। স্কুলের ইউনিফর্ম মাটিতে মাখামাখি হয়ে বাসায় ফিরলে আম্মুর বকা, আর সেই বিখ্যাত বাঁশের ব্যাত— সবকিছুই আজ মনে পড়ে এক টুকরো হাসির গল্পের মতো।

দুষ্টুমির স্মৃতিতে বাঁধা দিন

একবার তো খেলতে খেলতে দৌড়াতে গিয়ে রিকশার নিচে পড়ে গিয়েছিলাম। ব্যথা পেয়েছিলাম বটে, কিন্তু দুষ্টুমি একটুও কমেনি। মনে হতো— জীবন মানেই খেলা, জীবন মানেই আনন্দ।

নতুন পথে, নতুন বন্ধুত্ব

প্রাইমারি পেরিয়ে হাইস্কুলে পা রাখা ছিল এক নতুন দিগন্তে যাত্রা। বাসা থেকে দূরে সেই স্কুল, নতুন পরিবেশ, নতুন মুখ— সবই ছিল অচেনা। কিন্তু কিছুদিন পরই পরিচয় হলো এক বন্ধুর সঙ্গে, যে হয়ে উঠল জীবনের অমূল্য সঙ্গী। আমরা একসাথে হাঁটতাম, একসাথে স্বপ্ন দেখতাম। স্কুলের প্রতিটি মুহূর্ত ভাগাভাগি করতাম যেন দুই আত্মার এক যাত্রা।

বন্ধুত্বের অদৃশ্য বন্ধন

বন্ধুত্ব— যার কোনো স্বার্থ নেই, নেই কোনো শর্ত। শুধু সঙ্গ আর ভালোবাসা। আমার জীবনে সেই সঙ্গী ছিল ইমন। ভাইয়ের মতোই ছিল সে, বরং অনেক সময় আপন ভাইয়ের থেকেও বেশি কাছের। জীবনের প্রতিটি বাঁকে এমন একজন বন্ধু থাকাই যেন সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।

শাসনের আড়ালে ভালোবাসা

আমার বাবা-মা দুজনই শিক্ষক ছিলেন। তাঁদের কঠোর শাসনে বেড়ে ওঠা মনে হতো কষ্টকর। কিন্তু আজ বুঝি— সেটিই ছিল ভালোবাসার অন্যরকম রূপ। তাঁরা চেয়েছিলেন আমি মানুষ হই, স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যাই।

সময়ের স্রোতে ভেসে চলা

সময় বয়ে যায় নদীর স্রোতের মতো। থেমে থাকে না এক মুহূর্ত। স্কুল থেকে কলেজ, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়— জীবন তার গন্তব্যে এগিয়ে চলে। আজ আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। কিন্তু মনে হয়, এই তো সেদিন— দুষ্টুমি করে ড্রেস ময়লা করেছিলাম, আম্মুর বকা খেয়েছিলাম।

ফিরে পাওয়ার আকুলতা

একসময় মনে হয়েছিল— স্কুলজীবন শেষ হোক, শুরু হোক নতুন জীবন। অথচ আজ প্রাণের গভীর থেকে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে সেই পুরনো দিনে। কারণ, স্কুলজীবনই আমার জীবনের সবচেয়ে মধুর স্মৃতি।
যে সময় একবার চলে গেলে আর কোনোদিন ফিরে আসে না। কেবল থেকে যায় হৃদয়ের কোণে, অমলিন, অমূল্য, অশেষ।


Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

৯৮০ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি আটক।

স্কুলজীবনের স্মৃতি | শৈশব ও বন্ধুত্বের অমলিন গল্প

স্কুলজীবন : অমলিন স্মৃতি

Update Time : ০৮:০৫:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জীবনের দীর্ঘ পথচলায় কিছু মুহূর্ত থাকে, যা কখনোই মুছে যায় না। সময় যতই বয়ে যাক, সেসব স্মৃতি রঙিন হয়ে ফিরে আসে মনে। আমার জন্য সেই অমলিন স্মৃতির নাম— স্কুলজীবন।

শৈশবের রঙিন সকাল

সেই দিনগুলোতে ছিল না কোনো চাওয়া, ছিল না কোনো দায়। ছিল কেবল দুষ্টুমি, হাসি আর খেলা। ভাইয়ের সঙ্গে খেলনা নিয়ে ঝগড়া, আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই একসাথে দৌড়ে বেড়ানো— সবই ছিল এক স্বপ্নিল খেলার মাঠ। স্কুলের ইউনিফর্ম মাটিতে মাখামাখি হয়ে বাসায় ফিরলে আম্মুর বকা, আর সেই বিখ্যাত বাঁশের ব্যাত— সবকিছুই আজ মনে পড়ে এক টুকরো হাসির গল্পের মতো।

দুষ্টুমির স্মৃতিতে বাঁধা দিন

একবার তো খেলতে খেলতে দৌড়াতে গিয়ে রিকশার নিচে পড়ে গিয়েছিলাম। ব্যথা পেয়েছিলাম বটে, কিন্তু দুষ্টুমি একটুও কমেনি। মনে হতো— জীবন মানেই খেলা, জীবন মানেই আনন্দ।

নতুন পথে, নতুন বন্ধুত্ব

প্রাইমারি পেরিয়ে হাইস্কুলে পা রাখা ছিল এক নতুন দিগন্তে যাত্রা। বাসা থেকে দূরে সেই স্কুল, নতুন পরিবেশ, নতুন মুখ— সবই ছিল অচেনা। কিন্তু কিছুদিন পরই পরিচয় হলো এক বন্ধুর সঙ্গে, যে হয়ে উঠল জীবনের অমূল্য সঙ্গী। আমরা একসাথে হাঁটতাম, একসাথে স্বপ্ন দেখতাম। স্কুলের প্রতিটি মুহূর্ত ভাগাভাগি করতাম যেন দুই আত্মার এক যাত্রা।

বন্ধুত্বের অদৃশ্য বন্ধন

বন্ধুত্ব— যার কোনো স্বার্থ নেই, নেই কোনো শর্ত। শুধু সঙ্গ আর ভালোবাসা। আমার জীবনে সেই সঙ্গী ছিল ইমন। ভাইয়ের মতোই ছিল সে, বরং অনেক সময় আপন ভাইয়ের থেকেও বেশি কাছের। জীবনের প্রতিটি বাঁকে এমন একজন বন্ধু থাকাই যেন সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।

শাসনের আড়ালে ভালোবাসা

আমার বাবা-মা দুজনই শিক্ষক ছিলেন। তাঁদের কঠোর শাসনে বেড়ে ওঠা মনে হতো কষ্টকর। কিন্তু আজ বুঝি— সেটিই ছিল ভালোবাসার অন্যরকম রূপ। তাঁরা চেয়েছিলেন আমি মানুষ হই, স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যাই।

সময়ের স্রোতে ভেসে চলা

সময় বয়ে যায় নদীর স্রোতের মতো। থেমে থাকে না এক মুহূর্ত। স্কুল থেকে কলেজ, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়— জীবন তার গন্তব্যে এগিয়ে চলে। আজ আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। কিন্তু মনে হয়, এই তো সেদিন— দুষ্টুমি করে ড্রেস ময়লা করেছিলাম, আম্মুর বকা খেয়েছিলাম।

ফিরে পাওয়ার আকুলতা

একসময় মনে হয়েছিল— স্কুলজীবন শেষ হোক, শুরু হোক নতুন জীবন। অথচ আজ প্রাণের গভীর থেকে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে সেই পুরনো দিনে। কারণ, স্কুলজীবনই আমার জীবনের সবচেয়ে মধুর স্মৃতি।
যে সময় একবার চলে গেলে আর কোনোদিন ফিরে আসে না। কেবল থেকে যায় হৃদয়ের কোণে, অমলিন, অমূল্য, অশেষ।