জাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার

  • শাহীনুল হক :
  • Update Time : ০৫:৩৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
  • ৪৫৯ Time View

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার সাবেক সভাপতি, সাবেক সহকারী প্রক্টর এবং পাবলিক হেলথ ও ইনফরমেটিক্স বিভাগের বহিস্কৃত সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান জনিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ আগস্ট) ভোররাত ৩টার দিকে সাভারের পুলিশ টাউন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহীনুর কবির।

গ্রেপ্তার মাহমুদুর রহমান জনি (৩৬) কিশোরগঞ্জ জেলার সদর থানার হারুয়া গ্ৰামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মাহমুদুর রহমান জনি সাভার মডেল থানার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি। ভোর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের পুলিশ টাউন এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহীনুর কবির বলেন, গ্রেপ্তার জাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনিকে সাভার মডেল থানার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যা মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে।

উল্লেখ্য, যৌন নিপীড়নের অভিযোগেবিশেষ সিন্ডিকেট সভায় মাহমুদুর রহমান জনিকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত (বহিষ্কার) করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর আগে ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর মাহমুদুর রহমান জনি ও একই বিভাগে সেসময় সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রভাষক আনিকা বুশরা বৈচির একটি অন্তরঙ্গ ছবি (সেলফি) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে পোস্টারিং করা হয়। যেখানে বলা হয়, এভাবেই ললিপপের ভেল্কিতে শিক্ষিকা হলেন আনিকা বুশরা বৈচি।

একইসঙ্গে বিভাগের শিক্ষক পদে আবেদনকারী ৪৩ ব্যাচের আরেক ছাত্রীর সঙ্গে জনির আপত্তিকর এবং অন্তরঙ্গ কথাবার্তার অডিও প্রকাশ্যে আসে। যেখানে মাহমুদুর রহমান জনির কন্ঠে ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর কথা বলতে শোনা যায়।

এছাড়া জনির সঙ্গে ছাত্রলীগের একাধিক নেত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং অশালীন চ্যাটিংয়ের ছবি ও তথ্য প্রকাশ্যে আসলে বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। পরে ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে জনির বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় জনির বিরুদ্ধে গঠিত হয় স্ট্রাকচার্ড কমিটি।

এরপর ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সিন্ডিকেট সভায় মাহমুদুর রহমান জনিকে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

৯৮০ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি আটক।

জাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার

Update Time : ০৫:৩৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার সাবেক সভাপতি, সাবেক সহকারী প্রক্টর এবং পাবলিক হেলথ ও ইনফরমেটিক্স বিভাগের বহিস্কৃত সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান জনিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ আগস্ট) ভোররাত ৩টার দিকে সাভারের পুলিশ টাউন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহীনুর কবির।

গ্রেপ্তার মাহমুদুর রহমান জনি (৩৬) কিশোরগঞ্জ জেলার সদর থানার হারুয়া গ্ৰামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মাহমুদুর রহমান জনি সাভার মডেল থানার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি। ভোর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের পুলিশ টাউন এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহীনুর কবির বলেন, গ্রেপ্তার জাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনিকে সাভার মডেল থানার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যা মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে।

উল্লেখ্য, যৌন নিপীড়নের অভিযোগেবিশেষ সিন্ডিকেট সভায় মাহমুদুর রহমান জনিকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত (বহিষ্কার) করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর আগে ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর মাহমুদুর রহমান জনি ও একই বিভাগে সেসময় সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রভাষক আনিকা বুশরা বৈচির একটি অন্তরঙ্গ ছবি (সেলফি) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে পোস্টারিং করা হয়। যেখানে বলা হয়, এভাবেই ললিপপের ভেল্কিতে শিক্ষিকা হলেন আনিকা বুশরা বৈচি।

একইসঙ্গে বিভাগের শিক্ষক পদে আবেদনকারী ৪৩ ব্যাচের আরেক ছাত্রীর সঙ্গে জনির আপত্তিকর এবং অন্তরঙ্গ কথাবার্তার অডিও প্রকাশ্যে আসে। যেখানে মাহমুদুর রহমান জনির কন্ঠে ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর কথা বলতে শোনা যায়।

এছাড়া জনির সঙ্গে ছাত্রলীগের একাধিক নেত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং অশালীন চ্যাটিংয়ের ছবি ও তথ্য প্রকাশ্যে আসলে বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। পরে ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে জনির বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় জনির বিরুদ্ধে গঠিত হয় স্ট্রাকচার্ড কমিটি।

এরপর ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সিন্ডিকেট সভায় মাহমুদুর রহমান জনিকে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।