শিবালয়ে আ’লীগের দোসর ‘দুর্নীতিবাজ’ প্রধান শিক্ষককে বহালের অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আওয়ামীলীগের দোসর মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন কবিরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদাচরণ অভিযোগ প্রমাণিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শাস্তি না দিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে স্বপদে বহালের অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

রবিরার সকালে বিদ্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। ‘দুর্নীতিবাজ আলমগীরের শাস্তি চাই, শাস্তি চাই’ ‘আলমগীরের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান’ ও আলমগীরের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’ এসবসহ আরও নানা স্লোগান দিয়ে মিছিলটি উথলি-জাফরগঞ্জ সড়কে দিয়ে জাফরগঞ্জ বাজার প্রদক্ষিণ করে আবার বিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়।

সাবেক, বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মো. জাকির হোসেনের রহস্যজনক ভূমিকায় দুর্নীতিবাজ এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১০ কার্য দিবসের তদন্ত কার্যক্রম শেষ হতে সময় লেগেছে প্রায় ৭ মাস। অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা তদন্ত কার্যক্রম বিলম্বিত ও কালক্ষেপণ করে তাকে দায়মুক্তি দিতে নীল নকশা করেছেন। রাজনৈতিক তদবিরসহ উত্থাপিত অভিযোগের নতুন করে বিল ভাউচার ও ক্যাশবুক নতুন করে লেখা, বিদ্যালয়ে পকেট অ্যাডহক কমিটি গঠন ও অভিযোগকারীদের ম্যানেজের চেষ্টার সুযোগ সৃষ্টি করে তদন্তের নামে প্রহসন করার অপচেষ্টা করছেন।

তারা জানান, এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে আলাদাভাবে অভিযোগ করেছেন তারা। দপ্তরগুলোর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আদালতে মামলাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শুধুমাত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিতভাবে দেয়া অভিযোগগুলো তদন্তে প্রমাণিত হলেও প্রধান শিক্ষককে শাস্তির বদলে দায়সারা এক মাসের ছুটি মঞ্জুর করে স্বপদে বহালের অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন অনৈতিক সুবিধাগ্রহণকারীরা।

এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় অধিকতর তদন্ত ও প্রধান শিক্ষককে স্থায়ী অপসারণের দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। স্বপদে বহাল হয়ে প্রধান শিক্ষক তার সন্ত্রাসীরা বাহিনী নিয়ে বিদ্যালয়ে এলে যদি কোন আইনশঙ্খলা বিঘ্নিত ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। তার দায়-দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসন, অ্যাডহক কমিটিসহ সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির আল্টিমেটাল দিয়েছেন বিদ্যালয়ের সাবেক বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর নভেম্বর মাসে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন কবিরের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদাচরণ অভিযোগের বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। ওই দিন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. বেলাল হোসেন বিদ্যালয়ে এসে বিক্ষোভকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বহিস্কারের ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদাচরণের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। এর তিন দিন পরে আবারও বিদ্যালয়ের সাবেক বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদাচরণের লিখিত দেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম ফয়েজ উদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ১০ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন। কিন্তু, বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বহিস্কারের ঘোষণা দিলেও দাপ্তরিকভাবে তা রেজুলেশন কিংবা চিঠি ইস্যু করা হয়নি। ফলে প্রধান শিক্ষক তার সন্ত্রাসী বাহিনী ও দালালদের নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। ছাত্র-জনতা বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে তিনি না এসে পুলিশ পাঠান। পুলিশ এসেও অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। তখন প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে না আসার মুচলেকা দিলে পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এরপর তদন্ত কমিটি দুই কার্য দিবস বিদ্যালয়ে এসে তদন্ত কাজ করেন। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম ফয়েজ উদ্দিন অভিযোগকারীদের মৌখিকভাবে বলেন যে,‘প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি ধরা পড়েছে। জমি ক্রয়ের একটি ভাউচারেই ৫০ হাজার টাকা আত্নসাৎ করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ রকম বহু ভাউচারে অর্থ লোপাটের প্রমাণ পাওয়া গেছে।’

১০ কার্য দিবসে এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও মাসের পর মাস পার হতে থাকে। এরপর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে অভিযোগকারীরা বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেন। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বেলাল হোসেন বদলি হয়ে যান। ৩/৪ মাস আগে তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম ফয়েজ উদ্দিন তদন্ত প্রতিবেদন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেনের কাছে জমা দিয়ে বদলি হয়ে যান।

অভিযোগকারীরা তাকে বিষয়টি জানিয়ে একাধিকবার সাক্ষাত করেন। প্রতিবারই উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিযোগকারীদের বলেছেন,‘তদন্ত প্রতিবেদনে প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি পাওয়া গেছে। তাকে শাস্তি পেতেই হবে।’ কিন্তু তিনি তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে রহস্যজনকভাবে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। এমনকি অভিযোগকারীদেরকে তদন্ত প্রতিবেদনের কোন কপিও দেননি। পুরো বিষয়টি রহস্যজনকভাবে গোপন রেখে প্রধান শিক্ষককে স্বপদে বহালের নীল নকশা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গত বছরের ২৪ নভেম্বর প্রথম বিক্ষোভ মিছিল ও দ্বিতীয় দফায় বিদ্যালয়ে এসে অবরুদ্ধ হওয়ার পর থেকেই প্রধান শিক্ষক আজ পর্যন্ত বিদ্যালয়ে আসেননি। অথচ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করেও বেতন ভাতাদি গ্রহণ করেছেন। সরকারি এই অর্থ কোষাগারের ফেরতসহ দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আর বিদ্যালয়ে ৭/৮ মাস উপস্থিত না থেকেই বাইরে বসে বির্তকিত অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিতে রয়েছেন- অদক্ষ ও মেরুদণ্ডহীন পুতুল সাদৃশ এবিএম মঞ্জুরুল আলম বাশার, অভিভাবক সদস্য প্রধান শিক্ষকের আত্নীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সুমনের ভাই আলী আহমেদ শান্তি ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের আস্থাভাজন সহকারী শিক্ষক মোবারক হোসেন। এরাই এখন দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষকের রক্ষা কবজ হিসেবে কাজ করছেন। পেছনে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন।

শিক্ষার্থী-অভিভাবকেরা আরও অভিযোগ করেন, ‘২০১৭ সালে আলমগীর এই বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদাচরণ শুরু করেন। তার কাছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সব সময় তটস্থ থাকতে হতো। কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আওয়ামী লীগের প্রভাব বিস্তার করে বিদ্যালয় পরিচালনা করতেন তিনি। প্রধান শিক্ষক মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর ও সুবিধাভোগী। তার চাচাতো ভাই আবুল বাশার সুমন তেওতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রধান শিক্ষক আলমগীর ছিলেন আবুল বাশার সুমনের নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়ক। নৌকা প্রতীকে এলাকাবাসী ছাড়াও শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের কাছে গিয়ে নৌকায় ভোট চেয়েছেন। ভোট না দিলে সন্তানদের বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র দিয়ে বের করে দেয়ার ও ফেল করিয়ে দেয়ার ভয়ভীতিও দেখিয়েছেন।

৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপি নাম ভাঙিয়ে দলে ভিড়েন আলমগীর। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের পদও ভাগিয়ে নেন। পরে কমিটির ভেতরে-বাইরে আপত্তির কারণে সেই কমিটি কার্যক্রম করতে পারনি। কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকারের দোসর হয়ে এলাকায় কিছু বিএনপি’ নেতাকর্মী পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের শেল্টার নেন প্রধান শিক্ষক। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করেছেন তাদেরকে নানাভাবে ম্যানেজ ও হুমকি-দামকি দেন এই ভাড়াটিয়া লোকজন।

এই প্রধান শিক্ষকের উল্লেখযোগ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্যে রয়েছে, নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন ফি ২৯৬ টাকার স্থলে ৪৩০ টাকা আদায় করা হয়েছে। চলতি বছরের আগস্টের আগে অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা ফি ৫৫০ টাকা আদায় করা হয়। অথচ পরীক্ষার ফি নেয়ার কথা ছিল ৪০০ টাকা। কিন্তু সেই সময় সরকার পতন আন্দোলনের কারণে পরীক্ষা বন্ধ থাকে। পুনরায় বার্ষিক পরীক্ষায় ৫৫০ টাকা দাবি করলে শিক্ষার্থীরা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। খন্ডকালীন শিক্ষকদের বেতনের নামে বছরের শুরুতে ৫০০ টাকা করে প্রায় ৪ লাখ টাকা আদায় করা হয় এবং বছর শেষে আরও ৫০০ টাকা দাবি করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তা দিতে রাজি হয়নি। অথচ খণ্ডকালীন তিনজন শিক্ষককে ভাতা দেয়া হয় বছরে ৯০ হাজার টাকা।

৫৫০ টাকা পরীক্ষা ফি আদায় করেও প্রবেশপত্র ফি বাবদ আরও ১০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিল আদায় করা হয়। ‍উপ-বৃত্তি ফরমের নামে ষষ্ট শ্রেণির প্রায় দুইশ’ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে দুইশ’ টাকা করে ফরম মূল্য আদায় করে এবং প্রত্যেক অভিভাবককে ১ হাজার টাকা জমা রেখে ব্যাংক অ্যাকাউন্ড খুলতে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু, সবাই উপ-বৃত্তি পায়নি।বছরের শুরুতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত সেশন ফি আদায় করা হয়। যারা দিতে ব্যর্থ হয়, তাদের বই দেয়া হয় না।

তাছাড়া, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। শিক্ষকদের কাছে কোচিং না করলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় নম্বর দেয়া হয় না। অনেক সময় ফেল করিয়ে দেয়া হয়। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের ফান্ডের টাকা দিয়ে জাল ওয়ারিশান সার্টিফিকেট তৈরি করে ভূয়া মালিক সাজিয়ে বিদ্যালয়, ম্যানেজিং কমিটির আহ্বায়ক ও নিজের স্ত্রীর নামে জমি কিনেছেন। এই জমি কেনার জন্য ভূয়া বিল ভাউচারের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। এই ওয়ারিশান জাল প্রমাণিত হওয়ায় উথলি ইউনিয়ন পরিষদ বাতিল করেছেন। তাছাড়া প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে যেসব শিক্ষক-কর্মচারি নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

প্রত্যেকটি নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিলেও দেয়া হয় না রশিদ। প্রধান শিক্ষক, স্থানীয় আওয়ামী লীগ পরিবার সন্তান সহকারী শিক্ষক আব্দুল মজিদ, মোবারক হোসেন ও কেরানি শফিক সিন্ডিকেট করে ভূয়া বিলা ভাইচার করে বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গে বিল ভাউচার তদন্ত ও নিরিক্ষা করলেই বের হয়ে আসবে প্রধান শিক্ষকের লুটপাটের প্রমাণ।’

প্রধান শিক্ষককের দোসর ও ভাড়াটিয়া লোকজন তাকে স্বপদে বহাল করতে এলাকায় অপতৎপরতা শুরু করে দিয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ এসব দাবি সমর্থনকারীদেরও নানাভাবে নাজেহাল করার হুমকি-দামকি, চাপ সৃষ্টি ও আর্থিক সুবিধায় ম্যানেজ করার পায়তারা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকেরা।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি এবিএম মঞ্জুরুল আলম বাশার প্রধান শিক্ষকের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন,‘তদন্ত কমিটি ২৪টি অভিযোগের মধ্যে ১৬টি কেটে দিয়েছেন। ৮টি অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে প্রধান শিক্ষককে ১ মাসের ছুটি দেয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের নোটিসের জবাবে প্রমাণ হয়েছে যে,‘ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির অনুমোদনক্রমে জমি ক্রয়সহ যাবতীয় আয় ব্যয় করা হয়েছে। এতে প্রধান শিক্ষক দায়মুক্ত। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে মিটিং করে প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিকে, সাবেক বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী অ্যডহক কমিটির সভাপতির বক্তব্য প্রত্যখান করে বলেছেন,‘তারা যে নীল নকশা করে প্রধান শিক্ষককে স্বপদে বহালের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই সভাপতির বক্তব্য তা ফুটে উঠেছে। এই সভাপতি প্রধান শিক্ষকের পুতুল ও পকেট কমিটি। আমরা প্রধান শিক্ষকের স্থায়ী অপসারণসহ এই অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্তের ঘোষণা করে সভাপতিরও শাস্তি দাবি করছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

৯৮০ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি আটক।

শিবালয়ে আ’লীগের দোসর ‘দুর্নীতিবাজ’ প্রধান শিক্ষককে বহালের অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

Update Time : ০৬:১৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আওয়ামীলীগের দোসর মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন কবিরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদাচরণ অভিযোগ প্রমাণিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শাস্তি না দিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে স্বপদে বহালের অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

রবিরার সকালে বিদ্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। ‘দুর্নীতিবাজ আলমগীরের শাস্তি চাই, শাস্তি চাই’ ‘আলমগীরের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান’ ও আলমগীরের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’ এসবসহ আরও নানা স্লোগান দিয়ে মিছিলটি উথলি-জাফরগঞ্জ সড়কে দিয়ে জাফরগঞ্জ বাজার প্রদক্ষিণ করে আবার বিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়।

সাবেক, বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মো. জাকির হোসেনের রহস্যজনক ভূমিকায় দুর্নীতিবাজ এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১০ কার্য দিবসের তদন্ত কার্যক্রম শেষ হতে সময় লেগেছে প্রায় ৭ মাস। অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা তদন্ত কার্যক্রম বিলম্বিত ও কালক্ষেপণ করে তাকে দায়মুক্তি দিতে নীল নকশা করেছেন। রাজনৈতিক তদবিরসহ উত্থাপিত অভিযোগের নতুন করে বিল ভাউচার ও ক্যাশবুক নতুন করে লেখা, বিদ্যালয়ে পকেট অ্যাডহক কমিটি গঠন ও অভিযোগকারীদের ম্যানেজের চেষ্টার সুযোগ সৃষ্টি করে তদন্তের নামে প্রহসন করার অপচেষ্টা করছেন।

তারা জানান, এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে আলাদাভাবে অভিযোগ করেছেন তারা। দপ্তরগুলোর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আদালতে মামলাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শুধুমাত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিতভাবে দেয়া অভিযোগগুলো তদন্তে প্রমাণিত হলেও প্রধান শিক্ষককে শাস্তির বদলে দায়সারা এক মাসের ছুটি মঞ্জুর করে স্বপদে বহালের অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন অনৈতিক সুবিধাগ্রহণকারীরা।

এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় অধিকতর তদন্ত ও প্রধান শিক্ষককে স্থায়ী অপসারণের দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। স্বপদে বহাল হয়ে প্রধান শিক্ষক তার সন্ত্রাসীরা বাহিনী নিয়ে বিদ্যালয়ে এলে যদি কোন আইনশঙ্খলা বিঘ্নিত ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। তার দায়-দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসন, অ্যাডহক কমিটিসহ সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির আল্টিমেটাল দিয়েছেন বিদ্যালয়ের সাবেক বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছর নভেম্বর মাসে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন কবিরের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদাচরণ অভিযোগের বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। ওই দিন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. বেলাল হোসেন বিদ্যালয়ে এসে বিক্ষোভকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বহিস্কারের ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদাচরণের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। এর তিন দিন পরে আবারও বিদ্যালয়ের সাবেক বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন করেন এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদাচরণের লিখিত দেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম ফয়েজ উদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ১০ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন। কিন্তু, বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বহিস্কারের ঘোষণা দিলেও দাপ্তরিকভাবে তা রেজুলেশন কিংবা চিঠি ইস্যু করা হয়নি। ফলে প্রধান শিক্ষক তার সন্ত্রাসী বাহিনী ও দালালদের নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। ছাত্র-জনতা বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে তিনি না এসে পুলিশ পাঠান। পুলিশ এসেও অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। তখন প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে না আসার মুচলেকা দিলে পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এরপর তদন্ত কমিটি দুই কার্য দিবস বিদ্যালয়ে এসে তদন্ত কাজ করেন। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম ফয়েজ উদ্দিন অভিযোগকারীদের মৌখিকভাবে বলেন যে,‘প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি ধরা পড়েছে। জমি ক্রয়ের একটি ভাউচারেই ৫০ হাজার টাকা আত্নসাৎ করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ রকম বহু ভাউচারে অর্থ লোপাটের প্রমাণ পাওয়া গেছে।’

১০ কার্য দিবসে এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও মাসের পর মাস পার হতে থাকে। এরপর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে অভিযোগকারীরা বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেন। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বেলাল হোসেন বদলি হয়ে যান। ৩/৪ মাস আগে তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম ফয়েজ উদ্দিন তদন্ত প্রতিবেদন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেনের কাছে জমা দিয়ে বদলি হয়ে যান।

অভিযোগকারীরা তাকে বিষয়টি জানিয়ে একাধিকবার সাক্ষাত করেন। প্রতিবারই উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিযোগকারীদের বলেছেন,‘তদন্ত প্রতিবেদনে প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি পাওয়া গেছে। তাকে শাস্তি পেতেই হবে।’ কিন্তু তিনি তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে রহস্যজনকভাবে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। এমনকি অভিযোগকারীদেরকে তদন্ত প্রতিবেদনের কোন কপিও দেননি। পুরো বিষয়টি রহস্যজনকভাবে গোপন রেখে প্রধান শিক্ষককে স্বপদে বহালের নীল নকশা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গত বছরের ২৪ নভেম্বর প্রথম বিক্ষোভ মিছিল ও দ্বিতীয় দফায় বিদ্যালয়ে এসে অবরুদ্ধ হওয়ার পর থেকেই প্রধান শিক্ষক আজ পর্যন্ত বিদ্যালয়ে আসেননি। অথচ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করেও বেতন ভাতাদি গ্রহণ করেছেন। সরকারি এই অর্থ কোষাগারের ফেরতসহ দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আর বিদ্যালয়ে ৭/৮ মাস উপস্থিত না থেকেই বাইরে বসে বির্তকিত অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিতে রয়েছেন- অদক্ষ ও মেরুদণ্ডহীন পুতুল সাদৃশ এবিএম মঞ্জুরুল আলম বাশার, অভিভাবক সদস্য প্রধান শিক্ষকের আত্নীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সুমনের ভাই আলী আহমেদ শান্তি ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের আস্থাভাজন সহকারী শিক্ষক মোবারক হোসেন। এরাই এখন দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষকের রক্ষা কবজ হিসেবে কাজ করছেন। পেছনে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন।

শিক্ষার্থী-অভিভাবকেরা আরও অভিযোগ করেন, ‘২০১৭ সালে আলমগীর এই বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও অসদাচরণ শুরু করেন। তার কাছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সব সময় তটস্থ থাকতে হতো। কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আওয়ামী লীগের প্রভাব বিস্তার করে বিদ্যালয় পরিচালনা করতেন তিনি। প্রধান শিক্ষক মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর ও সুবিধাভোগী। তার চাচাতো ভাই আবুল বাশার সুমন তেওতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রধান শিক্ষক আলমগীর ছিলেন আবুল বাশার সুমনের নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়ক। নৌকা প্রতীকে এলাকাবাসী ছাড়াও শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের কাছে গিয়ে নৌকায় ভোট চেয়েছেন। ভোট না দিলে সন্তানদের বিদ্যালয় থেকে ছাড়পত্র দিয়ে বের করে দেয়ার ও ফেল করিয়ে দেয়ার ভয়ভীতিও দেখিয়েছেন।

৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপি নাম ভাঙিয়ে দলে ভিড়েন আলমগীর। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের পদও ভাগিয়ে নেন। পরে কমিটির ভেতরে-বাইরে আপত্তির কারণে সেই কমিটি কার্যক্রম করতে পারনি। কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকারের দোসর হয়ে এলাকায় কিছু বিএনপি’ নেতাকর্মী পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের শেল্টার নেন প্রধান শিক্ষক। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ করেছেন তাদেরকে নানাভাবে ম্যানেজ ও হুমকি-দামকি দেন এই ভাড়াটিয়া লোকজন।

এই প্রধান শিক্ষকের উল্লেখযোগ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্যে রয়েছে, নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন ফি ২৯৬ টাকার স্থলে ৪৩০ টাকা আদায় করা হয়েছে। চলতি বছরের আগস্টের আগে অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষা ফি ৫৫০ টাকা আদায় করা হয়। অথচ পরীক্ষার ফি নেয়ার কথা ছিল ৪০০ টাকা। কিন্তু সেই সময় সরকার পতন আন্দোলনের কারণে পরীক্ষা বন্ধ থাকে। পুনরায় বার্ষিক পরীক্ষায় ৫৫০ টাকা দাবি করলে শিক্ষার্থীরা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। খন্ডকালীন শিক্ষকদের বেতনের নামে বছরের শুরুতে ৫০০ টাকা করে প্রায় ৪ লাখ টাকা আদায় করা হয় এবং বছর শেষে আরও ৫০০ টাকা দাবি করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তা দিতে রাজি হয়নি। অথচ খণ্ডকালীন তিনজন শিক্ষককে ভাতা দেয়া হয় বছরে ৯০ হাজার টাকা।

৫৫০ টাকা পরীক্ষা ফি আদায় করেও প্রবেশপত্র ফি বাবদ আরও ১০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিল আদায় করা হয়। ‍উপ-বৃত্তি ফরমের নামে ষষ্ট শ্রেণির প্রায় দুইশ’ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে দুইশ’ টাকা করে ফরম মূল্য আদায় করে এবং প্রত্যেক অভিভাবককে ১ হাজার টাকা জমা রেখে ব্যাংক অ্যাকাউন্ড খুলতে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু, সবাই উপ-বৃত্তি পায়নি।বছরের শুরুতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত সেশন ফি আদায় করা হয়। যারা দিতে ব্যর্থ হয়, তাদের বই দেয়া হয় না।

তাছাড়া, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। শিক্ষকদের কাছে কোচিং না করলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় নম্বর দেয়া হয় না। অনেক সময় ফেল করিয়ে দেয়া হয়। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের ফান্ডের টাকা দিয়ে জাল ওয়ারিশান সার্টিফিকেট তৈরি করে ভূয়া মালিক সাজিয়ে বিদ্যালয়, ম্যানেজিং কমিটির আহ্বায়ক ও নিজের স্ত্রীর নামে জমি কিনেছেন। এই জমি কেনার জন্য ভূয়া বিল ভাউচারের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। এই ওয়ারিশান জাল প্রমাণিত হওয়ায় উথলি ইউনিয়ন পরিষদ বাতিল করেছেন। তাছাড়া প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে যেসব শিক্ষক-কর্মচারি নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

প্রত্যেকটি নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিলেও দেয়া হয় না রশিদ। প্রধান শিক্ষক, স্থানীয় আওয়ামী লীগ পরিবার সন্তান সহকারী শিক্ষক আব্দুল মজিদ, মোবারক হোসেন ও কেরানি শফিক সিন্ডিকেট করে ভূয়া বিলা ভাইচার করে বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাবের সঙ্গে বিল ভাউচার তদন্ত ও নিরিক্ষা করলেই বের হয়ে আসবে প্রধান শিক্ষকের লুটপাটের প্রমাণ।’

প্রধান শিক্ষককের দোসর ও ভাড়াটিয়া লোকজন তাকে স্বপদে বহাল করতে এলাকায় অপতৎপরতা শুরু করে দিয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ এসব দাবি সমর্থনকারীদেরও নানাভাবে নাজেহাল করার হুমকি-দামকি, চাপ সৃষ্টি ও আর্থিক সুবিধায় ম্যানেজ করার পায়তারা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী-অভিভাবকেরা।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি এবিএম মঞ্জুরুল আলম বাশার প্রধান শিক্ষকের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন,‘তদন্ত কমিটি ২৪টি অভিযোগের মধ্যে ১৬টি কেটে দিয়েছেন। ৮টি অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে প্রধান শিক্ষককে ১ মাসের ছুটি দেয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের নোটিসের জবাবে প্রমাণ হয়েছে যে,‘ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির অনুমোদনক্রমে জমি ক্রয়সহ যাবতীয় আয় ব্যয় করা হয়েছে। এতে প্রধান শিক্ষক দায়মুক্ত। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে মিটিং করে প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিকে, সাবেক বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী অ্যডহক কমিটির সভাপতির বক্তব্য প্রত্যখান করে বলেছেন,‘তারা যে নীল নকশা করে প্রধান শিক্ষককে স্বপদে বহালের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই সভাপতির বক্তব্য তা ফুটে উঠেছে। এই সভাপতি প্রধান শিক্ষকের পুতুল ও পকেট কমিটি। আমরা প্রধান শিক্ষকের স্থায়ী অপসারণসহ এই অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্তের ঘোষণা করে সভাপতিরও শাস্তি দাবি করছি।