নির্বাচন নিয়ে কী, দ্বিধায় বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক ময়দানে ফের দেখা যাচ্ছে মতপার্থক্য ও কৌশলগত অবস্থানের জটিলতা। নির্বাচনকাল, মৌলিক সংস্কার ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতারা একই সুরে কথা বলছেন। উভয় দলই জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। এই দাবিকে সমর্থন দিচ্ছে ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো। খবর বিবিসি বাংলার।

বিএনপি বরং নির্বাচন চায় ২০২৬ সালের রমজানের আগেই। যদিও দলটি শুরুতে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দাবি করেছিল, পরবর্তীতে তারেক রহমানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার লন্ডন বৈঠকে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে একমত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীও শুরুতে ডিসেম্বর থেকে জুন সময়সীমাকে ইতিবাচকভাবে দেখেছিল। পরে বিভিন্ন সময়ে দলটি কখনো এপ্রিল, কখনো ফেব্রুয়ারির পক্ষে অবস্থান নেয়। যদিও দলটির মতে, এতে অবস্থানগত কোনো পরিবর্তন হয়নি—বরং রাজনৈতিক বাস্তবতায় সামান্য নমনীয়তা এসেছে।

এনসিপি’র বক্তব্য বরং অনেক বেশি কঠোর। দলটি বলছে, “জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন ও মৌলিক সংস্কার ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না।” ১১ জুলাই যশোরের এক সমাবেশে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমরাও নির্বাচন চাই। তবে বিচার ও সংস্কার ছাড়া নয়। প্রয়োজনে আবার গণঅভ্যুত্থান ঘটবে। যারা বাধা দেবে, তাদের লাল কার্ড দেখানো হবে।”

এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে বিএনপি কি আদৌ স্বস্তিতে থাকবে? এনসিপি বা জামায়াতের মতো শরিক দলগুলোর কঠোর অবস্থান কি বিএনপিকে নতুন করে সংশয়ে ফেলছে?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা অনেক সংস্কার প্রস্তাবে একমত হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, সত্তরের অনুচ্ছেদ—এসব নিয়ে আমাদের সুস্পষ্ট প্রস্তাব রয়েছে। কিন্তু সবকিছুতে নিঃশর্ত একমত হতে বলা হলে, তা তো সংস্কার নয়।”

তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন দল নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দর কষাকষির অংশ হিসেবে কিছু অতিরঞ্জিত দাবি তুলতে পারে। তাদের মাঠের বক্তব্য একরকম হলেও আলোচনার টেবিলে ভিন্ন কথাই শোনা যায়।”

বিএনপির দৃষ্টিতে, সব দলের দাবি একযোগে মেনে নেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। তারা স্পষ্ট করছে—যৌক্তিক সংস্কার চাইলে তারা প্রস্তুত, তবে অন্যদের চাপের মুখে ‘সবকিছুতেই একমত’ হওয়ার রাজনীতি করবে না।

সব মিলিয়ে, এনসিপি ও জামায়াতের কৌশলগত অবস্থান এবং সময় ইস্যুতে ভিন্নমতের কারণে একটি প্রশ্ন উঠেছে—নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘিরে বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি কি নতুন করে কৌশল নির্ধারণে ভাবনায় পড়েছে? মাঠে যতই দৃঢ় অবস্থান থাকুক না কেন, আলোচনার টেবিলে অনেক হিসাবই হয়ত ভিন্নরকম।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

৯৮০ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি আটক।

নির্বাচন নিয়ে কী, দ্বিধায় বিএনপি

Update Time : ০৮:০৫:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক ময়দানে ফের দেখা যাচ্ছে মতপার্থক্য ও কৌশলগত অবস্থানের জটিলতা। নির্বাচনকাল, মৌলিক সংস্কার ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতারা একই সুরে কথা বলছেন। উভয় দলই জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও কাঠামোগত সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। এই দাবিকে সমর্থন দিচ্ছে ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো। খবর বিবিসি বাংলার।

বিএনপি বরং নির্বাচন চায় ২০২৬ সালের রমজানের আগেই। যদিও দলটি শুরুতে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দাবি করেছিল, পরবর্তীতে তারেক রহমানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার লন্ডন বৈঠকে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে একমত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীও শুরুতে ডিসেম্বর থেকে জুন সময়সীমাকে ইতিবাচকভাবে দেখেছিল। পরে বিভিন্ন সময়ে দলটি কখনো এপ্রিল, কখনো ফেব্রুয়ারির পক্ষে অবস্থান নেয়। যদিও দলটির মতে, এতে অবস্থানগত কোনো পরিবর্তন হয়নি—বরং রাজনৈতিক বাস্তবতায় সামান্য নমনীয়তা এসেছে।

এনসিপি’র বক্তব্য বরং অনেক বেশি কঠোর। দলটি বলছে, “জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন ও মৌলিক সংস্কার ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না।” ১১ জুলাই যশোরের এক সমাবেশে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমরাও নির্বাচন চাই। তবে বিচার ও সংস্কার ছাড়া নয়। প্রয়োজনে আবার গণঅভ্যুত্থান ঘটবে। যারা বাধা দেবে, তাদের লাল কার্ড দেখানো হবে।”

এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে বিএনপি কি আদৌ স্বস্তিতে থাকবে? এনসিপি বা জামায়াতের মতো শরিক দলগুলোর কঠোর অবস্থান কি বিএনপিকে নতুন করে সংশয়ে ফেলছে?

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা অনেক সংস্কার প্রস্তাবে একমত হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, সত্তরের অনুচ্ছেদ—এসব নিয়ে আমাদের সুস্পষ্ট প্রস্তাব রয়েছে। কিন্তু সবকিছুতে নিঃশর্ত একমত হতে বলা হলে, তা তো সংস্কার নয়।”

তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন দল নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দর কষাকষির অংশ হিসেবে কিছু অতিরঞ্জিত দাবি তুলতে পারে। তাদের মাঠের বক্তব্য একরকম হলেও আলোচনার টেবিলে ভিন্ন কথাই শোনা যায়।”

বিএনপির দৃষ্টিতে, সব দলের দাবি একযোগে মেনে নেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। তারা স্পষ্ট করছে—যৌক্তিক সংস্কার চাইলে তারা প্রস্তুত, তবে অন্যদের চাপের মুখে ‘সবকিছুতেই একমত’ হওয়ার রাজনীতি করবে না।

সব মিলিয়ে, এনসিপি ও জামায়াতের কৌশলগত অবস্থান এবং সময় ইস্যুতে ভিন্নমতের কারণে একটি প্রশ্ন উঠেছে—নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘিরে বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি কি নতুন করে কৌশল নির্ধারণে ভাবনায় পড়েছে? মাঠে যতই দৃঢ় অবস্থান থাকুক না কেন, আলোচনার টেবিলে অনেক হিসাবই হয়ত ভিন্নরকম।