আশুলিয়ায় শ্রমিকনেতা সুলতানের উসকানিতে পোশাক কারখানা ভাঙচুর; গ্রেপ্তার ১, আহত ৫

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৫৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫
  • ৪৬৫ Time View

প্রতিবেদাক : শাহীনুল হক। ৷

ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন আঞ্জুমান ডিজাইনার্স লিমিটেড গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিভিন্ন ভাবে উস্কানি দিয়ে আসছে একতা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোঃ সুলতান মাহমুদ।

সর্বশেষ গতবৃহস্পতিবার (০৫ই জুন) শ্রমিকনেতা সুলতানের উসকানিতে আঞ্জুমান ডিজাইনার্স লিমিটেডর পোশাক শ্রমিকদের দিয়ে কোম্পানির ভিতরে ব্যাপক ভাঙচুর ও হামলা চালিয়ে পাঁচ কর্মকতাকে আহত করা হয়।

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমার আঞ্জুমান ডিজাইনার্স লিমিটেড এর কোন শ্রমিকেরা বকেয়া কোন টাকাও পাবে না। তার পরেও তারা আমার পোশাক কারখানায় ভাঙচুর করে আমার স্টাফদেরকে আটক রেখে তাদের উপরে হামলা চালায় কিছু শ্রমিকরা। ঈদের আগে আমার সকল শ্রকিদের বাৎসরিক ছুটির টাকা, ঈদ বোনাচ প্রদান করা হয়েছে। তার পরেও কেনো শ্রমিকরা আমার কোম্পানীতে ভাঙচুর ও হামলা চালিয়েছে। আমার স্টাফদেরকে আটক রেখে হামলা, বিভিন্ন অফিস কক্ষ ভাঙচুর সহ সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে ক্যামেরা ডিভিআর ম্যাশিন খুলে নিয়ে যায় ভাঙচুর ও হামলাকারি শ্রকিকেরা। আমি ভাঙচুর ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্ত শাস্তি চাই।

ভাঙচুর ও হামলায় আহত হন, ফ্যাক্টরীর ম্যানেজার তাউজ খান জনি (৬০), প্রোডাকশন ম্যানেজার আব্দুস সালাম (৫৫), কোয়ালিটি ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিক (৫২), মার্চেন্ডাইজার তানভীর খান তুহিন (২৯), এক্সিকিউটিভ অফিসার (এইচআর ও অ্যাডমিন) খোকন হাওলাদার, (২৬), অফিস পিয়ন আব্দুল হামিদ (২৬)। আহত ব্যাক্তিরা বলেন, আমরা এগিয়ে এসে শ্রমিকদের শান্ত হয়ে উৎপাদন কাজে যোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করিলে কিছু শ্রমিকগণ ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার পাইপ, রড, কাঠের লাঠি সোটা নিয়ে শ্রমিকদের সামনে আমাদেরকে এলোপাথারী ভাবে মারধর ও হামলা চালায়। এবং আহত অবস্তায় আমাদের কয়েক জন শ্রকিরা আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যায়। হামলাকারী শ্রমিকদের থেকে বাকি স্টাফদের যৌথ বাহিনী এসে ফ্যাক্টরি থেকে উদ্ধার করেন।

এ সময়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানার একাধিক শ্রমিকেরা বলেন, কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিলেন কয়েকশো শ্রমিক। গত ৫ই জুন পূর্ন মাসের বেতনের দাবিতে কর্ম বিরতিতে যায় তারা। শ্রমিকনেতা সুলতানের উসকানির কারনে আমাদের কারখানায় ভাঙচুর ও স্টাফদের মারধর চালায় কিছু শ্রমিক। আর এই শ্রকিকেরা একতা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোঃ সুলতান মাহমুদের কমিটির সদস্যরা তার উসকানিতে এই ভাঙচুর ও হামলা চালায়।

হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে আশুলিয়া থানায় ৩১জন শ্রকিকের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উক্ত মামলায় প্রধান আসামি মোঃ লিখন মোল্লা (৩৯) কে গত সোমবার (১৬ জুন) রাতে গ্রেফতার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

৯৮০ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি আটক।

আশুলিয়ায় শ্রমিকনেতা সুলতানের উসকানিতে পোশাক কারখানা ভাঙচুর; গ্রেপ্তার ১, আহত ৫

Update Time : ০১:৫৬:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫

প্রতিবেদাক : শাহীনুল হক। ৷

ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন আঞ্জুমান ডিজাইনার্স লিমিটেড গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিভিন্ন ভাবে উস্কানি দিয়ে আসছে একতা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোঃ সুলতান মাহমুদ।

সর্বশেষ গতবৃহস্পতিবার (০৫ই জুন) শ্রমিকনেতা সুলতানের উসকানিতে আঞ্জুমান ডিজাইনার্স লিমিটেডর পোশাক শ্রমিকদের দিয়ে কোম্পানির ভিতরে ব্যাপক ভাঙচুর ও হামলা চালিয়ে পাঁচ কর্মকতাকে আহত করা হয়।

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমার আঞ্জুমান ডিজাইনার্স লিমিটেড এর কোন শ্রমিকেরা বকেয়া কোন টাকাও পাবে না। তার পরেও তারা আমার পোশাক কারখানায় ভাঙচুর করে আমার স্টাফদেরকে আটক রেখে তাদের উপরে হামলা চালায় কিছু শ্রমিকরা। ঈদের আগে আমার সকল শ্রকিদের বাৎসরিক ছুটির টাকা, ঈদ বোনাচ প্রদান করা হয়েছে। তার পরেও কেনো শ্রমিকরা আমার কোম্পানীতে ভাঙচুর ও হামলা চালিয়েছে। আমার স্টাফদেরকে আটক রেখে হামলা, বিভিন্ন অফিস কক্ষ ভাঙচুর সহ সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে ক্যামেরা ডিভিআর ম্যাশিন খুলে নিয়ে যায় ভাঙচুর ও হামলাকারি শ্রকিকেরা। আমি ভাঙচুর ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্ত শাস্তি চাই।

ভাঙচুর ও হামলায় আহত হন, ফ্যাক্টরীর ম্যানেজার তাউজ খান জনি (৬০), প্রোডাকশন ম্যানেজার আব্দুস সালাম (৫৫), কোয়ালিটি ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিক (৫২), মার্চেন্ডাইজার তানভীর খান তুহিন (২৯), এক্সিকিউটিভ অফিসার (এইচআর ও অ্যাডমিন) খোকন হাওলাদার, (২৬), অফিস পিয়ন আব্দুল হামিদ (২৬)। আহত ব্যাক্তিরা বলেন, আমরা এগিয়ে এসে শ্রমিকদের শান্ত হয়ে উৎপাদন কাজে যোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করিলে কিছু শ্রমিকগণ ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার পাইপ, রড, কাঠের লাঠি সোটা নিয়ে শ্রমিকদের সামনে আমাদেরকে এলোপাথারী ভাবে মারধর ও হামলা চালায়। এবং আহত অবস্তায় আমাদের কয়েক জন শ্রকিরা আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যায়। হামলাকারী শ্রমিকদের থেকে বাকি স্টাফদের যৌথ বাহিনী এসে ফ্যাক্টরি থেকে উদ্ধার করেন।

এ সময়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানার একাধিক শ্রমিকেরা বলেন, কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিলেন কয়েকশো শ্রমিক। গত ৫ই জুন পূর্ন মাসের বেতনের দাবিতে কর্ম বিরতিতে যায় তারা। শ্রমিকনেতা সুলতানের উসকানির কারনে আমাদের কারখানায় ভাঙচুর ও স্টাফদের মারধর চালায় কিছু শ্রমিক। আর এই শ্রকিকেরা একতা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোঃ সুলতান মাহমুদের কমিটির সদস্যরা তার উসকানিতে এই ভাঙচুর ও হামলা চালায়।

হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে আশুলিয়া থানায় ৩১জন শ্রকিকের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উক্ত মামলায় প্রধান আসামি মোঃ লিখন মোল্লা (৩৯) কে গত সোমবার (১৬ জুন) রাতে গ্রেফতার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ।