সাভারে কুখ্যাত ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতা ইমরান গ্রেফতার।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:২১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ জুন ২০২৫
  • ২৩০ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঈদের রাতে দায়িত্ব পালনকালে ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার সঙ্কা থাকা সত্ত্বেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এক কিলোমিটার দৌড়ে ধাওয়া দিয়ে সঙ্গবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের গ্রুপ লিডারকে গ্রেপ্তার করেছেন সাভার মডেল থানার এসআই চম্পক বড়ুয়া।

গ্রেপ্তারকৃত ছিনতাইকারী চক্রের প্রধান ইমরান মিয়া (২৬)। তিনি সাভার পৌর এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতা ও কুখ্যাত ছিনতাইকারী। দুর্ধর্ষ এই ছিনতাই চক্রের প্রধান ইমরান মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর থানার মৌহালি গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে।

দীর্ঘদিন যাবত পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সাভার পৌরসভার ওয়াপদা রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ছিনতাই এর মত জঘন্য অপকর্ম করে আসছিল ইমরান মিয়া। অবশেষে ঈদের রাতে পথচারীর সর্বস্ব লুট করতে গিয়ে পুলিশের জালেই ধরা পড়লেন দুর্ধর্ষ এই ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতা।

রবিবার (৮ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আশিক ইকবাল।

তিনি জানান, শনিবার দিবাগত (৮ জুন) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৩টায় সাভার থানাধীন সাভার বাজার বাস স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী দ্বীন ইসলাম নামে এক মাদ্রাসা ছাত্র জানান, ঈদের দিন গ্রামের বাড়ি নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার শাল বরাত এলাকা থেকে তিনি সাভার পৌর এলাকার নামা বাজারে বসবাসকারী বড় বোন আম্বি খানের বাসার উদ্দেশ্যে বেড়াতে আসেন। ভোর রাত আনুমানিক ৩ টায় সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের পাকিজা এলাকায় গাড়ি থেকে নেমে রিক্সার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় চক্রের প্রধান ইমরানসহ কয়েকজন ছিনতাইকারী তাকে ঘিরে ধরে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার চেষ্টা করে। ছিনতাইকারীদের সাথে কিছু সময় তার ধস্তাধস্তি হয়, বুদ্ধি খাটিয়ে একটি ব্যাংকের এটিএম বুথে কাছে থাকা মোবাইল, নগদ টাকা ও ব্যাগ রেখে এক পর্যায়ে সাভার থানা পুলিশের টহল গাড়ি দেখে চিৎকার করতে থাকেন। এ সময় চিৎকার শুনে তাৎক্ষণিক গাড়ি থেকে নেমে ছিনতাইকারীদের ধাওয়া দিলে পালানোর সময় আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালনে অনড় থেকে এক কিলোমিটার দৌড়ে এই চক্রের প্রধান ইমরান মিয়াকে ধরতে সক্ষম হন এসআই চম্পক বড়ুয়া। এ সময় তার সহযোগিতায় ওই মাদ্রাসা ছাত্রের একটি অ্যান্ড্রয়েট মোবাইল ও ২৪৯০ টাকা ফেরত পায়। কুখ্যাত ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতা ইমরানকে গ্রেপ্তার করায় সাভার মডেল থানা পুলিশের এসআই চম্পক বড়ুয়ার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মাদ্রাসা ছাত্র দ্বীন ইসলামসহ তার পরিবারের সদস্যরা।

এই ঘটনা জানাজানি হলে সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য এসআই চম্পক বড়ুয়া মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন। এ ঘটনা অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের জন্য অনুকরণীয় বলে তার সাফল্য কামনা করেন অনেকে।

জানতে চাইলে এসআই চম্পক বড়ুয়া বলেন, জনগণের জান-মাল রক্ষায় সবসময় পুলিশ আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে। ঈদের রাতে রাস্তায় পুলিশ নেই মনে করে এক পথচারীর গতিরোধ করার চেষ্টা করে ছিনতাইকারীরা। টহলরত অবস্থায় ঘটনাটি দেখতে পেয়ে ছিনতাইকারীদের পিছু নেই। কিছুদূর দৌড়ে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় চক্রের প্রধান ইমরানকে ধরতে সক্ষম হই। ভবিষ্যতেও যে কোনো পরিস্থিতিতে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সর্বদা তৎপর থাকবো।

এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আশিক ইকবাল জানান, নিঃসন্দেহে এসআই চম্পক বড়ুয়া প্রশংসিত কাজ করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পলাতকদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

৯৮০ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি আটক।

সাভারে কুখ্যাত ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতা ইমরান গ্রেফতার।

Update Time : ০৪:২১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ জুন ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঈদের রাতে দায়িত্ব পালনকালে ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার সঙ্কা থাকা সত্ত্বেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এক কিলোমিটার দৌড়ে ধাওয়া দিয়ে সঙ্গবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের গ্রুপ লিডারকে গ্রেপ্তার করেছেন সাভার মডেল থানার এসআই চম্পক বড়ুয়া।

গ্রেপ্তারকৃত ছিনতাইকারী চক্রের প্রধান ইমরান মিয়া (২৬)। তিনি সাভার পৌর এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতা ও কুখ্যাত ছিনতাইকারী। দুর্ধর্ষ এই ছিনতাই চক্রের প্রধান ইমরান মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর থানার মৌহালি গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে।

দীর্ঘদিন যাবত পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সাভার পৌরসভার ওয়াপদা রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ছিনতাই এর মত জঘন্য অপকর্ম করে আসছিল ইমরান মিয়া। অবশেষে ঈদের রাতে পথচারীর সর্বস্ব লুট করতে গিয়ে পুলিশের জালেই ধরা পড়লেন দুর্ধর্ষ এই ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতা।

রবিবার (৮ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আশিক ইকবাল।

তিনি জানান, শনিবার দিবাগত (৮ জুন) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৩টায় সাভার থানাধীন সাভার বাজার বাস স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী দ্বীন ইসলাম নামে এক মাদ্রাসা ছাত্র জানান, ঈদের দিন গ্রামের বাড়ি নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার শাল বরাত এলাকা থেকে তিনি সাভার পৌর এলাকার নামা বাজারে বসবাসকারী বড় বোন আম্বি খানের বাসার উদ্দেশ্যে বেড়াতে আসেন। ভোর রাত আনুমানিক ৩ টায় সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের পাকিজা এলাকায় গাড়ি থেকে নেমে রিক্সার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় চক্রের প্রধান ইমরানসহ কয়েকজন ছিনতাইকারী তাকে ঘিরে ধরে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার চেষ্টা করে। ছিনতাইকারীদের সাথে কিছু সময় তার ধস্তাধস্তি হয়, বুদ্ধি খাটিয়ে একটি ব্যাংকের এটিএম বুথে কাছে থাকা মোবাইল, নগদ টাকা ও ব্যাগ রেখে এক পর্যায়ে সাভার থানা পুলিশের টহল গাড়ি দেখে চিৎকার করতে থাকেন। এ সময় চিৎকার শুনে তাৎক্ষণিক গাড়ি থেকে নেমে ছিনতাইকারীদের ধাওয়া দিলে পালানোর সময় আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালনে অনড় থেকে এক কিলোমিটার দৌড়ে এই চক্রের প্রধান ইমরান মিয়াকে ধরতে সক্ষম হন এসআই চম্পক বড়ুয়া। এ সময় তার সহযোগিতায় ওই মাদ্রাসা ছাত্রের একটি অ্যান্ড্রয়েট মোবাইল ও ২৪৯০ টাকা ফেরত পায়। কুখ্যাত ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতা ইমরানকে গ্রেপ্তার করায় সাভার মডেল থানা পুলিশের এসআই চম্পক বড়ুয়ার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মাদ্রাসা ছাত্র দ্বীন ইসলামসহ তার পরিবারের সদস্যরা।

এই ঘটনা জানাজানি হলে সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য এসআই চম্পক বড়ুয়া মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন। এ ঘটনা অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের জন্য অনুকরণীয় বলে তার সাফল্য কামনা করেন অনেকে।

জানতে চাইলে এসআই চম্পক বড়ুয়া বলেন, জনগণের জান-মাল রক্ষায় সবসময় পুলিশ আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে। ঈদের রাতে রাস্তায় পুলিশ নেই মনে করে এক পথচারীর গতিরোধ করার চেষ্টা করে ছিনতাইকারীরা। টহলরত অবস্থায় ঘটনাটি দেখতে পেয়ে ছিনতাইকারীদের পিছু নেই। কিছুদূর দৌড়ে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় চক্রের প্রধান ইমরানকে ধরতে সক্ষম হই। ভবিষ্যতেও যে কোনো পরিস্থিতিতে আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সর্বদা তৎপর থাকবো।

এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আশিক ইকবাল জানান, নিঃসন্দেহে এসআই চম্পক বড়ুয়া প্রশংসিত কাজ করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পলাতকদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।