ঢাকা, ২৯ মে ২০২৫ – দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি তুলেছে। ঢাকার নয়াপল্টনে আয়োজিত সমাবেশে দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান বলেন, “ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দিতে হবে”। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বিএনপি এখন নির্বাচন প্রশ্নে সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছে।
কেন ডিসেম্বরেই নির্বাচন চাইছে বিএনপি?
বিএনপি মনে করছে, নির্বাচন হলে তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ এখন মাঠে নেই। দলে একধরনের আত্মবিশ্বাস জন্ম নিয়েছে যে, ভোট হলে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই তারা সরকার গঠন করতে পারবে। কিন্তু দলটির ভেতরে আরেকটি চিন্তা কাজ করছে—নির্বাচন দেরি হলে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে দখল, চাঁদাবাজি, আধিপত্যের লড়াই আরও বাড়বে, যা দলের ইমেজ নষ্ট করছে। তাই দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা করছে তারা।
সরকারকে কতটা চাপে ফেলতে পারবে বিএনপি?
বিএনপি সরকারের বড় অংশীজন হিসেবে নিজেকে দাবি করে। তাদের মতে, সরকার যদি বিএনপি এবং সেনাবাহিনীর সমর্থন না পায়, তাহলে ক্ষমতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। বিএনপি ইতোমধ্যে জানিয়েছে, নির্বাচনের রোডম্যাপ না এলে সরকারকে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে না। সমাবেশ ও গণজমায়েতের মাধ্যমে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে সরকারকে ডিসেম্বরে নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে চায় দলটি।
বিএনপি কি একা হয়ে পড়ছে?
জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ইসলামপন্থি দলগুলোর বেশিরভাগই ডিসেম্বরের মধ্যে নয়, জুন পর্যন্ত সময় নিয়ে নির্বাচন করতে চায়। সরকারও একই অবস্থানে আছে। ফলে ডিসেম্বরের দাবি নিয়ে বিএনপি একরকম একা অবস্থান করছে। বামপন্থি কয়েকটি দল তাদের সমর্থন দিলেও রাজনৈতিক বাস্তবে তেমন ওজন নেই। বিএনপি বুঝছে যে, একা হলেও চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।
সরকারের অবস্থান কী?
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি জাপান সফর থেকে জানিয়েছে, নির্বাচন ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে হবে। সরকারের উপদেষ্টারা বারবার বলছেন, সরকার ৩০ জুনের পর ক্ষমতায় থাকবে না, কিন্তু ডিসেম্বরের নির্বাচন তারা চায় না। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকারের সংস্কারের কাজ শেষ করতে আরও সময় দরকার, তাই তারা জুন পর্যন্ত সময় নিচ্ছে।
বিএনপির ভেতরে ষড়যন্ত্রের শঙ্কা
বিএনপির অনেক নেতা মনে করছেন, সরকার এনসিপি এবং জামায়াতকে এক ছাতার নিচে এনে বিএনপিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বিএনপির দাবিগুলো গুরুত্ব না দেওয়া, বিশেষ করে বিতর্কিত উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে বৈঠকে রাখা, বিএনপির মধ্যে সরকারের প্রতি সন্দেহ এবং অবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।
উত্তেজনা কমেছে, অস্বস্তি রয়ে গেছে
প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের ভাবনা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার পর সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমেছে। কিন্তু বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সরকারের সঙ্গে বিএনপি এবং সেনাবাহিনীর দূরত্ব কমেনি, বরং অস্বস্তি রয়ে গেছে। সরকারি সিদ্ধান্ত, মানবিক করিডর ইস্যু, চাকরি অধ্যাদেশ সংশোধনসহ নানা পদক্ষেপে সরকারের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল মনে হচ্ছে।
সমঝোতা ছাড়া উত্তেজনা প্রশমিত হবে না
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকারের বড় অংশীজনদের মধ্যে যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা দূর না হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। আগামী নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে হলে সরকার ও সব অংশীজনের মধ্যে সমঝোতা অপরিহার্য।
নিউজ ডেস্ক: 









