ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার টাংগাব গ্রামে শুক্রবার দুপুরে এক কৃষকের ৪টি গরু লুট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, সালিশ-দরবারের জন্য ঘুষের টাকা না দেওয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতা ইসলাম উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী এই গরু লুটের সঙ্গে জড়িত।
ভুক্তভোগী শামছুল ইসলাম (৭০) জানান, তিনি একই গ্রামের আমানুল্লাহর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা সুদে ধার নিয়েছিলেন। পরে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করার পর, বিষয়টি মধ্যস্থতা করার জন্য টাংগাব ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সভাপতি ইসলাম উদ্দিন ও তার সহযোগীরা সালিশ-দরবার করেন। কিন্তু মধ্যস্থতার বিনিময়ে ইসলাম উদ্দিন ও তার দল ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।
শামছুল ইসলাম জানান, যখন তিনি এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান, তখন শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে বিএনপি নেতা ইসলাম উদ্দিন, ইমরান, কাশেমসহ ৫/৬ জন সশস্ত্র লোক তার বাড়িতে এসে তাকে হুমকি দেন। পরে, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আবার ইসলাম উদ্দিন ও তার সহযোগীরা এসে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তারা শামছুল ইসলামকে মারধর করে এবং ৪টি গরু লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনা একটি গোপন ভিডিওতে ধারণ করা হয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ইসলাম উদ্দিন ও তার সঙ্গীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দল থেকে বহিস্কার করার দাবি জানান।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর, পাগলা থানা পুলিশ দ্রুত তৎপর হয়ে রাতে গরুগুলো উদ্ধার করে শামছুল ইসলামের কাছে ফিরিয়ে দেয়। শামছুল ইসলাম জানান, “পাগলা থানা পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে আমি আমার ৪টি গরু ফেরত পেয়েছি। তবে সন্ত্রাসীরা এখনো আমাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে এবং আমি বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না।”
পাগলা থানার ওসি মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম জানান, “শামছুল ইসলামের লুট হওয়া ৪টি গরু উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। যদি ভুক্তভোগী মামলা করতে চান, তবে মামলা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।
স্টাফ রিপোর্টার 









