সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীরের তৈরি সংগঠন সংখ্যালঘু নির্যাতনের মনগড়া কল্পকাহিনী প্রচার করছে ভারতের মিডিয়ায়

  • নিউজ ডেস্ক
  • Update Time : ০৭:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪
  • ২৮৫ Time View

২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই বাংলাদেশের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির অন্যতম নীতি নির্ধারক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ওইক্য পরিষদের মত কোলকাতায়ও একটি সংগঠন গড়ে তোলা প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন। পরবর্তীতে সেটি গঠন করা হয়েছিল যার নাম ছিল Campaign Against Atrocities On Minorities in Bangladesh (CAAMB)। উদ্দেশ্য ছিল ভারতের সংখ্যালঘুদের (মুসলমান)  নির্যাতন করা। এর ফলে ভারতের মুসলিমরা বাংলাদেশে মুসলিমদের কাছে অনুনয়-মিনতি করবে যেন বাংলাদেশে বসবাসরত হিনুদের তথাকথিত নির্যাতন করা না হয়। এ পলিসি মেকিংয়ের ফলে ওই সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ঘটে।আর বাংলাদেশে হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ওক্য পরিষদ গঠন হয় 1988 সালে। যার সভাপতি ছিলেন তিন জন। মেজর জেনারেল সি আর দত্ত, ,বোধি পাল মহথেরো ও টি রোজারিও । সাধারণ সম্পাদক নিম চন্দ্র ভৌমিক। এ ছাড়া কমিটিতে সে সময় যারা ছিলেন এখনও তারাই আছেন কোন পরিবর্তন হয়নি।কমিটিতে আরও রয়েছেন, কাজল দেবনাথ, মনিন্দ্র নাথ,সাংবাদিক সুভাষ চন্দ্র বাদল প্রমুখ । কোলকাতার সিনিয়র সাংবাদিক সাদ উদ্দীন তাঁর নিজের ভাষায় এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। প্রতিবেদনটি পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হলো।

তিনি লিখেছেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের কল্পকাহিনী গুলো  শুরু হয় ২০০২-২০০৩ সালে । বিএনপি তখন বাংলাদেশে ক্ষমতায়।  ওই সময়  কোলকাতার কলেজস্ট্রিটের মহাবোধি সোসাইটি  হলে গঠিত হয়েছিল Campaign Against Atrocities On Minorities in Bangladesh (CAAMB/ক্যাম্ব)। এই CAAMB গঠনের সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ঘাতক দালাল নির্মু ল কমিটির সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর । যে কোনো দেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনকে অবশ্যই  আমি  ঘৃণার বলে মনে করি। কিন্তু কল্পকাহিনী প্রচার করে যখন উন্মাদনা তৈরি করা হয় , তখন তা হয়ে ওঠে আরো বিপজ্জনক । যে দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হয় , সেদেশের আইনে তার বিচার হওয়া দরকার বলে মনে করি। শুধু তাই নয়, সেই দেশে লড়াই-আন্দোলন তীব্র হোক সেটাই মনে করি ।  ক্যাম্ব দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ শিক্ষাসদনে এই নিয়ে বড়  অনুষ্ঠান করেছিল ২০০৪ সালের ২২-২৩ জানুয়ারিতে । সেই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সদস্যরা । ক্যাম্বের পক্ষ থেকে ছিলেন বিমল প্রামাণিক,  মোহিত রায় , অচিন্ত গুপ্তসহ প্রমুখ ।  এখানে আসেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য প্রয়াত সন্তোষ ভট্টাচার্য,  শিবনারায়ণ রায়সহ অনেকে । এই দুই ব্যক্তি একটা দারুণ সত্য উচ্চারণ করেছিলেন ওই সময় ।  তারা বলেছিলেন, ’ওপারের (বাংলাদেশ) সংখ্যালঘু নির্যাতনের কথা বলতে এসে এপারের সংখ্যালঘু নির্যাতনকে ভুলি কী করে? কেন না এখানেও গুজরাট, নেলি, , ভাগলপুর, সুরাট ও মুম্বাই হয়েছে’।  সেই সভায় উপস্থিত  ছিলেন বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিম নাসরিন । তিনি সেদিন গুজরাট ও বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নির্যাতন নিয়ে একটা প্রতিবাদী কবিতা পাঠ করেছিলেন । কিন্তু পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করেন বাংলাদেশের আরেক বিতর্কিত লেখক সালাম আজাদ (বর্তমানে তিনি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ’র’-এর আতিথেয়তায় দিল্লীতে অবস্থান করছেন)। তিনি বলেছিলেন, ”বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বাঁচাতে হলে এখানকার সংখ্যাগুরুদের ( হিন্দু) হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে এখানকার সংখ্যালঘুদের (মুসলিম) পেটাতে হবে । তখন এই সংখ্যালঘুরা বাংলাদেশের সংখ্যাগুরুদের বলবে, তোমরা তোমাদের সংখ্যালঘুদের বাঁচাও, নইলে আমরা বাঁচতে পারছি না। এছাড়া কোনো উপায় নেই “।  কিন্তু বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে তা কলকাতা পুলিসের গোচরে যায় । তারপর বিষয়টাতে একটা কড়া রাশ টানা হয় । দু-একবার বালিগঞ্জ শিক্ষা সদনে বা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নিয়ে সম্মেলন হলেও কলকাতাতে সেভাবে কিছু হয়নি । কিন্তু সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নকল সিডি প্রদর্শন করে এই মিথ্যা কল্পকাহিনীকে আরো ঢালাও প্রচার করে ক্যাম্ব । বেশ কিছুটা প্রভাব বিস্তার করে । বালিগঞ্জ শিক্ষাসদনে লেখক সালাম আজাদের

এই ধরণের বক্তব্য সেদিন পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে দেয় । পুলিস আশঙ্কা করতে থাকে যে, পাশেই পার্কসার্কাস । সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আশঙ্কা করে বিশাল পুলিস মোতায়েন করা হয়।  সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এবার শুভেন্দু অধিকারীর প্রজেক্ট । ওই প্রজেক্টের মাধ্যমেই সে (শুভেন্দু অধিকারী)  আর জি করের ঘটনায়  নবান্ন অভিযান ফ্লপ মেরেছে । তাই ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনকে সামনে রেখে শুভেন্দুবাবুসহ অন্যরা এগোতে চাইছেন ভোট মেরুকরণ করতে ধর্মীয়  উন্মাদনা তৈরি করে । বাংলাদেশে নির্যাতন যা ঘটেছে তার চেয়ে বেশি ফেক প্রচার করা হয়েছে ।  দেখা গেছে , ভারতের হাতরাসের সংখ্যালঘু নির্যাতনের ছবি দেখিয়ে এখানকার (পশ্চিমবঙ্গে) অন্তত ৫০টি টিভি চ্যানেল ভুয়ো খবর দিয়েছে । আর ইসকনের বহিস্কৃত সমাজবিরোধী চিন্ময় দাসকে একেবারে  হিরো বানানোর চেষ্টা । কিন্তু চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে খুনের ঘটনা পুরো বাইপাশ করা হল ।  আমি অন্তত চট্টগ্রাম বা বাংলাদেশের অর্ধশতক হিন্দু বন্ধুদের জিজ্ঞাসা করলাম ঘটনার সত্য জানার জন্য। তারা বললেন , পরিস্থিতিকে খারাপ করে দিচ্ছে ভারতের ৫০টির মতো বেসরকারি টিভি চ্যানেল ।  আমরাও এখানে এই কারণে প্রচণ্ড অস্বস্তিতে রয়েছি। একথা সত্য যে,  শুভেন্দুবাবু সুপার ফ্লপ। বেলডাঙার সায়ন হালদার,  কার্তিক মহারাজ বা ভরতনাথ ঝাওয়ারসহ প্রমুখ বহু সাধনার ফল । এটাই বাস্তব । বেলডাঙার ঘটনা স্বাভাবিক হওয়ার পর ১৫ ডিসেম্বর (২০২৪) মুর্শিদাবাদের বহরমপুর  জেলা বইমেলায়  কী ঘটনা ঘটালো আর এস এসের দোসররা । পুলিসের প্রচেষ্টা বা সাধারণ মানুষের  ভূমিকার জন্য সেদিন বড়সড় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে ঠেকানো গেছে । পশ্চিমবঙ্গে ক্যাম্ব কিন্তু মিথ্যা কল্পকাহিনী নিয়ে এখনো তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ।

বেলডাঙাতে কার্তিক লড়াইয়ে যে ঘটনা ঘটেছে , তার আগেও পাশেই নওদা থানার ত্রিমোহিনীর কাছে ঝাউবোনা  হাইস্কুলে সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে বড়সড় ঘটনা ঘটেছিল । তিনজন মুসলিম যুবক খুন হয়েছিল।  এর মূলেও ছিল ঐসব নাটের গুরুরা । একশ্রেণীর মিডিয়া এদেরকেই বাহবা দিয়েছিল ।  মিডিয়ার একশ্রেণীর প্রতিনিধিরা এলাকায়  মুসলিম দরদ দেখাতে গিয়ে  কার্যত মুসলিমদের মনন নিয়ে আবার বিজেপি-আর এস এসকে গোপন রিপোর্ট সরবরাহ করেছিল যা একটা বিপজ্জনক প্রবণতা । আমাদের মিডিয়া জানেই না সাহারগাছি রামকৃষ্ণ মিশন, বেলডাঙার ভারত সেবাশ্রমের জায়গা দান করেছেন এলাকার অভিজাত মুসলিমরা ।  আমাদের মিডিয়া (পশ্চিমবঙ্গ) তাদের কথা বলে না যারা ঐ এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন । সে সময় যারা ভুমিকা রেখেছিলেন তারা হলেন, ড: আসাদুজ্জামান, বেলডাঙা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সনৎ কর ও অরূপ চক্রবর্তী । এখনও ওইসব এলাকার  (পশ্চিমবঙ্গ) সাধারণ মানুষ এদেরকে হাজারো কুর্ণিশ করে, সম্মান করে

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

৯৮০ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি আটক।

সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীরের তৈরি সংগঠন সংখ্যালঘু নির্যাতনের মনগড়া কল্পকাহিনী প্রচার করছে ভারতের মিডিয়ায়

Update Time : ০৭:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪

২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই বাংলাদেশের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির অন্যতম নীতি নির্ধারক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ওইক্য পরিষদের মত কোলকাতায়ও একটি সংগঠন গড়ে তোলা প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন। পরবর্তীতে সেটি গঠন করা হয়েছিল যার নাম ছিল Campaign Against Atrocities On Minorities in Bangladesh (CAAMB)। উদ্দেশ্য ছিল ভারতের সংখ্যালঘুদের (মুসলমান)  নির্যাতন করা। এর ফলে ভারতের মুসলিমরা বাংলাদেশে মুসলিমদের কাছে অনুনয়-মিনতি করবে যেন বাংলাদেশে বসবাসরত হিনুদের তথাকথিত নির্যাতন করা না হয়। এ পলিসি মেকিংয়ের ফলে ওই সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ঘটে।আর বাংলাদেশে হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ওক্য পরিষদ গঠন হয় 1988 সালে। যার সভাপতি ছিলেন তিন জন। মেজর জেনারেল সি আর দত্ত, ,বোধি পাল মহথেরো ও টি রোজারিও । সাধারণ সম্পাদক নিম চন্দ্র ভৌমিক। এ ছাড়া কমিটিতে সে সময় যারা ছিলেন এখনও তারাই আছেন কোন পরিবর্তন হয়নি।কমিটিতে আরও রয়েছেন, কাজল দেবনাথ, মনিন্দ্র নাথ,সাংবাদিক সুভাষ চন্দ্র বাদল প্রমুখ । কোলকাতার সিনিয়র সাংবাদিক সাদ উদ্দীন তাঁর নিজের ভাষায় এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। প্রতিবেদনটি পাঠকদের জন্য হুবুহু তুলে ধরা হলো।

তিনি লিখেছেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের কল্পকাহিনী গুলো  শুরু হয় ২০০২-২০০৩ সালে । বিএনপি তখন বাংলাদেশে ক্ষমতায়।  ওই সময়  কোলকাতার কলেজস্ট্রিটের মহাবোধি সোসাইটি  হলে গঠিত হয়েছিল Campaign Against Atrocities On Minorities in Bangladesh (CAAMB/ক্যাম্ব)। এই CAAMB গঠনের সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ঘাতক দালাল নির্মু ল কমিটির সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর । যে কোনো দেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনকে অবশ্যই  আমি  ঘৃণার বলে মনে করি। কিন্তু কল্পকাহিনী প্রচার করে যখন উন্মাদনা তৈরি করা হয় , তখন তা হয়ে ওঠে আরো বিপজ্জনক । যে দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন হয় , সেদেশের আইনে তার বিচার হওয়া দরকার বলে মনে করি। শুধু তাই নয়, সেই দেশে লড়াই-আন্দোলন তীব্র হোক সেটাই মনে করি ।  ক্যাম্ব দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ শিক্ষাসদনে এই নিয়ে বড়  অনুষ্ঠান করেছিল ২০০৪ সালের ২২-২৩ জানুয়ারিতে । সেই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সদস্যরা । ক্যাম্বের পক্ষ থেকে ছিলেন বিমল প্রামাণিক,  মোহিত রায় , অচিন্ত গুপ্তসহ প্রমুখ ।  এখানে আসেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য প্রয়াত সন্তোষ ভট্টাচার্য,  শিবনারায়ণ রায়সহ অনেকে । এই দুই ব্যক্তি একটা দারুণ সত্য উচ্চারণ করেছিলেন ওই সময় ।  তারা বলেছিলেন, ’ওপারের (বাংলাদেশ) সংখ্যালঘু নির্যাতনের কথা বলতে এসে এপারের সংখ্যালঘু নির্যাতনকে ভুলি কী করে? কেন না এখানেও গুজরাট, নেলি, , ভাগলপুর, সুরাট ও মুম্বাই হয়েছে’।  সেই সভায় উপস্থিত  ছিলেন বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিম নাসরিন । তিনি সেদিন গুজরাট ও বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নির্যাতন নিয়ে একটা প্রতিবাদী কবিতা পাঠ করেছিলেন । কিন্তু পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করেন বাংলাদেশের আরেক বিতর্কিত লেখক সালাম আজাদ (বর্তমানে তিনি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ’র’-এর আতিথেয়তায় দিল্লীতে অবস্থান করছেন)। তিনি বলেছিলেন, ”বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বাঁচাতে হলে এখানকার সংখ্যাগুরুদের ( হিন্দু) হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে এখানকার সংখ্যালঘুদের (মুসলিম) পেটাতে হবে । তখন এই সংখ্যালঘুরা বাংলাদেশের সংখ্যাগুরুদের বলবে, তোমরা তোমাদের সংখ্যালঘুদের বাঁচাও, নইলে আমরা বাঁচতে পারছি না। এছাড়া কোনো উপায় নেই “।  কিন্তু বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে তা কলকাতা পুলিসের গোচরে যায় । তারপর বিষয়টাতে একটা কড়া রাশ টানা হয় । দু-একবার বালিগঞ্জ শিক্ষা সদনে বা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নিয়ে সম্মেলন হলেও কলকাতাতে সেভাবে কিছু হয়নি । কিন্তু সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নকল সিডি প্রদর্শন করে এই মিথ্যা কল্পকাহিনীকে আরো ঢালাও প্রচার করে ক্যাম্ব । বেশ কিছুটা প্রভাব বিস্তার করে । বালিগঞ্জ শিক্ষাসদনে লেখক সালাম আজাদের

এই ধরণের বক্তব্য সেদিন পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে দেয় । পুলিস আশঙ্কা করতে থাকে যে, পাশেই পার্কসার্কাস । সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আশঙ্কা করে বিশাল পুলিস মোতায়েন করা হয়।  সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এবার শুভেন্দু অধিকারীর প্রজেক্ট । ওই প্রজেক্টের মাধ্যমেই সে (শুভেন্দু অধিকারী)  আর জি করের ঘটনায়  নবান্ন অভিযান ফ্লপ মেরেছে । তাই ২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনকে সামনে রেখে শুভেন্দুবাবুসহ অন্যরা এগোতে চাইছেন ভোট মেরুকরণ করতে ধর্মীয়  উন্মাদনা তৈরি করে । বাংলাদেশে নির্যাতন যা ঘটেছে তার চেয়ে বেশি ফেক প্রচার করা হয়েছে ।  দেখা গেছে , ভারতের হাতরাসের সংখ্যালঘু নির্যাতনের ছবি দেখিয়ে এখানকার (পশ্চিমবঙ্গে) অন্তত ৫০টি টিভি চ্যানেল ভুয়ো খবর দিয়েছে । আর ইসকনের বহিস্কৃত সমাজবিরোধী চিন্ময় দাসকে একেবারে  হিরো বানানোর চেষ্টা । কিন্তু চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে খুনের ঘটনা পুরো বাইপাশ করা হল ।  আমি অন্তত চট্টগ্রাম বা বাংলাদেশের অর্ধশতক হিন্দু বন্ধুদের জিজ্ঞাসা করলাম ঘটনার সত্য জানার জন্য। তারা বললেন , পরিস্থিতিকে খারাপ করে দিচ্ছে ভারতের ৫০টির মতো বেসরকারি টিভি চ্যানেল ।  আমরাও এখানে এই কারণে প্রচণ্ড অস্বস্তিতে রয়েছি। একথা সত্য যে,  শুভেন্দুবাবু সুপার ফ্লপ। বেলডাঙার সায়ন হালদার,  কার্তিক মহারাজ বা ভরতনাথ ঝাওয়ারসহ প্রমুখ বহু সাধনার ফল । এটাই বাস্তব । বেলডাঙার ঘটনা স্বাভাবিক হওয়ার পর ১৫ ডিসেম্বর (২০২৪) মুর্শিদাবাদের বহরমপুর  জেলা বইমেলায়  কী ঘটনা ঘটালো আর এস এসের দোসররা । পুলিসের প্রচেষ্টা বা সাধারণ মানুষের  ভূমিকার জন্য সেদিন বড়সড় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে ঠেকানো গেছে । পশ্চিমবঙ্গে ক্যাম্ব কিন্তু মিথ্যা কল্পকাহিনী নিয়ে এখনো তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ।

বেলডাঙাতে কার্তিক লড়াইয়ে যে ঘটনা ঘটেছে , তার আগেও পাশেই নওদা থানার ত্রিমোহিনীর কাছে ঝাউবোনা  হাইস্কুলে সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে বড়সড় ঘটনা ঘটেছিল । তিনজন মুসলিম যুবক খুন হয়েছিল।  এর মূলেও ছিল ঐসব নাটের গুরুরা । একশ্রেণীর মিডিয়া এদেরকেই বাহবা দিয়েছিল ।  মিডিয়ার একশ্রেণীর প্রতিনিধিরা এলাকায়  মুসলিম দরদ দেখাতে গিয়ে  কার্যত মুসলিমদের মনন নিয়ে আবার বিজেপি-আর এস এসকে গোপন রিপোর্ট সরবরাহ করেছিল যা একটা বিপজ্জনক প্রবণতা । আমাদের মিডিয়া জানেই না সাহারগাছি রামকৃষ্ণ মিশন, বেলডাঙার ভারত সেবাশ্রমের জায়গা দান করেছেন এলাকার অভিজাত মুসলিমরা ।  আমাদের মিডিয়া (পশ্চিমবঙ্গ) তাদের কথা বলে না যারা ঐ এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন । সে সময় যারা ভুমিকা রেখেছিলেন তারা হলেন, ড: আসাদুজ্জামান, বেলডাঙা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সনৎ কর ও অরূপ চক্রবর্তী । এখনও ওইসব এলাকার  (পশ্চিমবঙ্গ) সাধারণ মানুষ এদেরকে হাজারো কুর্ণিশ করে, সম্মান করে