দগ্ধ শিশুদের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবন দিলেন শিক্ষিকা মাহরিন

  • নিউজ ডেস্ক :
  • Update Time : ০৪:২১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
  • ১৫৩ Time View

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হওয়া শিক্ষিকা মাহরিন চৌধুরী (৪২) অবশেষে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সোমবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

বিধ্বস্ত বিমানের আগুনে নিজে দগ্ধ হলেও শিশু শিক্ষার্থীদের প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এই সাহসী শিক্ষিকা। মাইলস্টোন স্কুলের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মাহরিন। ঘটনার সময় স্কুল ছুটি শেষে বের হচ্ছিলেন তিনি।

তার স্বামী মনসুর হেলাল বলেন, “ওর শরীর পুরোপুরি পুড়ে গিয়েছিল। লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার আগেও সে বলেছে, নিজে দগ্ধ হয়েও সে বাচ্চাদের নিরাপদে নিতে চেষ্টা করেছে।”

মাহরিন চৌধুরীর ভাই মুনাফ মুজিব চৌধুরী ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে লেখেন, “মাহরিন আপু আর আমাদের মাঝে নেই। তিনি আমার বড় বোন, আমার জীবনের মা।”

স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মতে, মাহরিন ছিলেন সকল শিশুর কাছে প্রিয়, সদা হাস্যোজ্জ্বল এবং নিবেদিতপ্রাণ একজন মানুষ।

মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন সাহসী এই শিক্ষিকা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post

৯৮০ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি আটক।

দগ্ধ শিশুদের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবন দিলেন শিক্ষিকা মাহরিন

Update Time : ০৪:২১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হওয়া শিক্ষিকা মাহরিন চৌধুরী (৪২) অবশেষে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সোমবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

বিধ্বস্ত বিমানের আগুনে নিজে দগ্ধ হলেও শিশু শিক্ষার্থীদের প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এই সাহসী শিক্ষিকা। মাইলস্টোন স্কুলের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মাহরিন। ঘটনার সময় স্কুল ছুটি শেষে বের হচ্ছিলেন তিনি।

তার স্বামী মনসুর হেলাল বলেন, “ওর শরীর পুরোপুরি পুড়ে গিয়েছিল। লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার আগেও সে বলেছে, নিজে দগ্ধ হয়েও সে বাচ্চাদের নিরাপদে নিতে চেষ্টা করেছে।”

মাহরিন চৌধুরীর ভাই মুনাফ মুজিব চৌধুরী ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে লেখেন, “মাহরিন আপু আর আমাদের মাঝে নেই। তিনি আমার বড় বোন, আমার জীবনের মা।”

স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মতে, মাহরিন ছিলেন সকল শিশুর কাছে প্রিয়, সদা হাস্যোজ্জ্বল এবং নিবেদিতপ্রাণ একজন মানুষ।

মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন সাহসী এই শিক্ষিকা।